খুলনায় খুচরা বাজারে তীব্র সংকটে পড়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি)। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল থেকেই নগরীর অধিকাংশ খুচরা দোকানে গ্যাস পাওয়া যায়নি। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণ গ্যাস মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে।
ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলেও ভোক্তা পর্যায়ে এখনো স্বস্তি ফেরেনি এলপিজির দামে। সংকট ও দাম বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনে। রান্না ও ব্যবসা পরিচালনায় বাড়তি খরচের চাপ তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে।
নগরীর পূর্ববানিয়াখামারের হোটেল ব্যবসায়ী মো. রুবেল জানান, গত দুই দিন আগে ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ৩০০ টাকায় কিনেছিলাম। কিন্তু বৃহস্পতিবার দোকানে গিয়ে দেখি, ওই কোম্পানির গ্যাস নেই। পরে অন্য কোম্পানির সিলিন্ডার কিনতে হয় ১ হাজার ৫৫০ টাকায়। এভাবে বাড়তি দামে গ্যাস কিনে ব্যবসা চালানো আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। দ্রুত এই সংকটের সমাধান প্রয়োজন।
গ্যাস কিনতে আসা চাকরিজীবী শফিকুর রহমান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হঠাৎ হঠাৎ বেড়ে গেলে আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। গ্যাসের দাম বাড়ায় ঘরের খরচ সামলানো দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ডিস্ট্রিবিউটররা চাহিদার এক তৃতীয়াংশ গ্যাসও সরবরাহ করতে পারছেন না। ফলে বেশি দামে কিনে বাধ্য হয়ে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
পূর্ব বানিয়াখামারের এলপিজি ব্যবসায়ী আশিকুর রহমান বলেন, আমরা চাহিদার এক তৃতীয়াংশ গ্যাসও পাচ্ছি না। ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে চাইলে তারা দিতে পারছে না। দু-একটি কোম্পানি থেকে অল্প পরিমাণ গ্যাস মিললেও কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে, তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।
এ বিষয়ে আই গ্যাসের খুলনা অঞ্চলের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রেইনবো এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শামীম রেজা বলেন, মূলত এলসি সংকট এবং জাহাজসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কারণে কোম্পানি থেকে গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি ইউরোপের বাজারেও গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ অবস্থায় ডিলারদের করার কিছু নেই। তার দৈনিক চাহিদা প্রায় ৫০০ বোতল হলেও বর্তমানে পাচ্ছেন মাত্র ২২০ বোতল। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কোম্পানি থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে, শিগগিরই এই সংকট কেটে যাবে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
প্রাণের খুলনা / এম এন এস
Comments
Post a Comment